রবিবার, ০১ মার্চ ২০২৬, ০৫:০১ পূর্বাহ্ন
নবাবগঞ্জ (ঢাকা) প্রতিনিধি॥
ঢাকার নবাবগঞ্জ উপজেলায় এক ব্যবসায়ীর মালিকানাধীন জমিতে জোড়পূূর্বক সাইনর্বোর্ড টাঙানোর অভিযোগ উঠেছে বিএনপি নেতা মো. কামরুজ্জামান খান ওরুফে মাসুদ পারভেজের বিরুদ্ধে। শনিবার ২৮ ফেব্রুয়ারি ঐ ব্যবসায়ী আনোয়ার হোসেন মোড়ল এ বিষয়ে নবাবগঞ্জ থানায় একটি লিখিত অভিযোগ করেছেন।
জানা যায়, শুক্রবার উপজেলার চূড়াইন ইউনিয়নের চূড়াইন মৌজায় ১৬০ খতিয়ানের আরএস ১৭৫, দাগের ১৬৯৩ এবং ১৬৯৪নং সম্পত্তির ৬ শতাংশ জমির উপর জোড়পূর্বক ঐ বিএনপি নেতা মো. কামরুজ্জামান খান ওরুফে মাসুদ পারভেজ জমির মালিক নিজেকে দাবি করে সাইনবোর্ড স্থাপন করেন।
ব্যবসায়ী আনোয়ার মোড়লের লিখিত অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, চূড়াইন মৌজায় তার পৈত্রিক সম্পত্তিতে র্দীর্ঘ একশ’ বছর যাবত সে ভোগ দখল করে বসবাস করছেন। কিন্তু হঠাৎ ৫ আগস্টের পর বিএনপির নেতা মো. কামরুজ্জামান খান @ মাসুদ পারভেজ, সাজ্জাদ হোসেন খান লিটন, মনিরুল ইসলাম মনির সহ অজ্ঞাতনামা আরো ৪-৫ জন আমার জমিটি দখল করার পায়তারা করে আসছেন। আমি (ব্যবসায়ী) বাঁধা দিতে গেলে আমাকে প্রাণ নাশের হুমকি দেয়।
উপায়অন্ত না পেয়ে আমি মহামান্য আদালতে গিয়ে নবাবগঞ্জ থানাধীন চুড়াইন মৌজাস্থিত আর.এস খতিয়ান নং-১৪৫, আর.এস দাগ নং-১৬৯৩, ১৬৯৪, ১৬২৫, ১৬২৬, ১৬২৭, ১৬৬৯, ১৬৭১, ১৬২৩ মোট জমির পরিমান ৬৪ শতাংশ ভিটা বাড়ি ও নাল শ্রেনীর জমি পৈত্রিক ওয়ারিশ সূত্রে মালিক হইয়া খাজনা খারিজ পরিশোধ করিয়া অদ্যবর্ধি ভোগদখলে আছি।
বিবাদীরা আমাদের উপরোক্ত জায়গার মিথ্যে মালিক দাবী করে জোর পূূর্বক ভোগদখলের অপচেষ্টা করে আসিতেছিল। অতঃপর আমি বাদী হইয়া মোকাম -বিজ্ঞ সিনিয়র সিভিল জজ নবাবগঞ্জ, আদালত, ঢাকা হাজির হইয়া বিবাদীদের বিরুদ্ধে দেওয়ানী মোকদ্দমা নং-১০/২০২৬ দায়ের করি। যাহা বর্তমানে বিজ্ঞ আদালতে বিচারাধীন রহিয়াছে। মামলা করার পর থেকে তারা মামলা তুলার জন্যও বিভিন্ন ভাবে আমাকে হুমকি-ধুমকি দিয়ে আসছে।
এমনকি আজ শনিবার জোড়পূর্বক আমার জমিতে তারা সাইনবোর্ড স্থাপন করেন। ব্যবসায়ী আনোয়ার হোসেন মোড়ল বলেন, শনিবার বিবাদীসহ অজ্ঞাতনামা বিবাদীরা আদালতের রায় অমান্য করে উপরোক্ত তফসিল বর্নিত জায়গা অবৈধভাবে প্রবেশ করিয়া আমাদের দোকানের বাশেঁর বেরা ভেঙ্গে ফেলে এবং উক্ত জায়গায় সাইনবোর্ড স্থাপন করে। উক্ত সাইনবোড যদি কেউ সরাতে আসে তাহলে তাহাকে প্রানে মেরে ফেলার হুমকিও প্রদান করে চলে যায় কামরুল।
আমি এই অন্যায়ের এর বিচার চাই এবং আমার জমি নিরাপত্তা চাই। এবিষয়ে অভিযুুক্ত বিএনপি নেতা মো. কামরুজ্জামান খান ওরুফে মাসুদ পারভেজ নিজেকে চূড়াইন ইউনিয়নের বিএনপির সভাপতি প্রার্থী দাবি করে বলেন, আমার পৈত্রিক সম্পত্তিতে আমি সাইনবোর্ড স্থাপন করেছি এতে কার কি? আপনার পৈত্রিক সম্পত্তিতে এতদিন দখন করেননি কেন প্রতিবেদকের এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন এটা আমার ব্যাপার।
এবিষয়ে নবাবগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আনোয়ার আলম আজাদ বলেন, অভিযোগ পেয়েছি তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।